সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীসহ জামায়াত নেতা আটকের দাবিতে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। একাধিক ফেসবুক আইডি ও পেজ থেকে ভিডিওটি প্রচার করে দাবি করা হয়, “কুমিল্লায় জামায়াত নেতা জাকির নিজ বাসায় পতিতা সহ হাতেনাতে আটক”।
এমন দাবিতে প্রচারিত কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে অনুসন্ধানে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য ও একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবির সঙ্গে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের মিল নেই।
ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করতে তার নামে থাকা ফেসবুক আইডি পর্যবেক্ষণ করা হয়। সেখানে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি এবং বিএনপির পক্ষে বিভিন্ন পোস্ট পাওয়া যায়। এছাড়া গত ১২ আগস্ট ‘লালমাই সংবাদ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে জাকির হোসেনের একটি বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ করা হয়।
পোস্টটির ক্যাপশনে তাকে “বাগমারা বাজারের ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা জাকির হোসেন” হিসেবে উল্লেখ করা হয়। নগদবিহীন লেনদেন সম্প্রসারণে পূবালী ব্যাংক পিএলসি বাগমারা উপশাখা আয়োজিত ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় দেওয়া নিজের বক্তব্যের ওই ভিডিওটি জাকির হোসেন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকেও শেয়ার করেন। ফলে তার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কার্যক্রমেও বিএনপির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।
এদিকে, এশিয়া পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কুমিল্লায় এক নারীসহ আটকের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় হিসেবে মাওলানা জাকির হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে তাকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ওলামা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রকাশিত জাকির হোসেনের ছবির সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির চেহারার হুবহু মিল পাওয়া যায়।
এশিয়া পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ আগস্ট রাত ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরীর ইপিজেড রোডের ঢুলিপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এক নারীসহ মাওলানা জাকির হোসেনকে স্থানীয় বাসিন্দারা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। স্থানীয়দের দাবি, পরিবারের অন্য সদস্যদের অনুপস্থিতিতে জাকির হোসেন ওই নারীকে নিয়ে বাসায় প্রবেশ করলে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে প্রতিবেশীরা তাদের ঘরে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্থানীয়দের প্রশ্নের জবাব দিতে দেখা যায় জাকির হোসেনকে। এ সময় ওই নারী ‘ব্যক্তিগত কাজে’ এসেছেন বলে জাকির হোসেন দাবি করেন। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে তল্লাশি চালিয়ে অনৈতিক কাজে ব্যবহৃত কিছু সামগ্রী উদ্ধারের দাবিও করা হয়। ঘটনার পর জাকির হোসেন এলাকা ছেড়ে গেছেন বলেও স্থানীয়দের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অতএব, কুমিল্লায় নারীসহ জাকির হোসেন আটকের ভিডিওটি জামায়াত নেতার আটকের ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হলেও দাবিটি সঠিক নয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য এবং জাকির হোসেনের নিজের ফেসবুক আইডিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি জামায়াতের নেতা নন, তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ওলামা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জাকির হোসেন। ফলে ভিডিওটির সঙ্গে জামায়াত নেতা পরিচয় যুক্ত করে প্রচারিত দাবিটি বিভ্রান্তিকর।