সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের নামে দুটি পৃথক মন্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। এর একটিতে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশকে বাঁচাতে সচিবালয় ও সেনাবাহিনীকে ‘পাকিস্তান মুক্ত’ করতে হবে। অন্যটিতে একই বক্তব্যে ‘পাকিস্তান’-এর পরিবর্তে ‘ভারত’ উল্লেখ করা হয়েছে।
‘The Wall News. com’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ‘বাংলাদেশ বাঁচাতে সচিবালয় ও সেনাবাহিনীকে পাকিস্তান মুক্ত করার আহবান সাখাওয়াত হোসেনের’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সচিবালয় ও সশস্ত্র বাহিনীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘পাকিস্তান মুক্ত’ করার আহ্বান জানিয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন। সেখানে তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, “বাংলাদেশকে বাঁচাতে চাইলে সচিবালয়কে পাকিস্তান মুক্ত করতে হবে। একই সাথে ডিজিএফআইসহ পুরো সেনাবাহিনীকেও পাকিস্তান মুক্ত করতে হবে।”
অন্যদিকে, ‘DSK TV’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে সাখাওয়াত হোসেনের নামে প্রচারিত একটি ফটোকার্ডে বলা হয়, “বাংলাদেশকে বাঁচাতে চাইলে সচিবালয়কে ভারত মুক্ত করতে হবে। সাথে ডিজিএফআইসহ পুরো সেনাবাহিনীকে ভারত মুক্ত করতে হবে।”
তবে অনুসন্ধানে সাখাওয়াত হোসেনের নামে এমন কোনো মন্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি। দেশের নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যমেও তার নামে এ ধরনের বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। তার বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সাম্প্রতিক বক্তব্য পর্যালোচনা করেও এমন মন্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
গত ২৭ জুন ২০২৬ সাখাওয়াত হোসেন জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগের টকশো ‘DW আলাপ’-এ অংশ নেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বললেও বাংলাদেশকে বাঁচাতে সচিবালয় বা সেনাবাহিনীকে ভারত কিংবা পাকিস্তান ‘মুক্ত’ করার কোনো আহ্বান জানাননি।
এদিকে, ‘The Wall News. com’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, “সম্প্রতি এক বক্তব্যে” সাখাওয়াত হোসেন এ ধরনের মন্তব্য করেছেন। তবে সেখানে বক্তব্যটি কোথায়, কখন বা কোন অনুষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য বা নির্ভরযোগ্য সূত্র উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে ‘ভারত মুক্ত’ করার দাবির ক্ষেত্রেও কোনো সূত্র উপস্থাপন করা হয়নি।
আরও অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাখাওয়াত হোসেনের নামে সচিবালয় ও সেনাবাহিনীকে ‘ভারত মুক্ত’ করার বক্তব্যটি নতুন নয়। চলতি বছরের মে মাসেও একই বক্তব্য তার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল। সে সময় ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার বক্তব্যটিকে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন হিসেবে শনাক্ত করে।
অতএব, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশকে বাঁচাতে সচিবালয় ও সেনাবাহিনীকে ‘ভারত’ বা ‘পাকিস্তান মুক্ত’ করার আহ্বান জানিয়েছেন, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার নামে প্রচারিত উভয় বক্তব্যই ভুয়া ও ভিত্তিহীন।