সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, “ভারতে প্রকাশ্যে দেখা মিললো শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনার।”
এমন দাবিতে প্রচারিত কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, দাবিটি সঠিক নয়। প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় এবং ভিডিওটির ঘটনাস্থলও ভারত নয়; এটি ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ধারণ করা একটি ভিডিও।
কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে ভিডিওটির পুরনো উৎস খুঁজে পাওয়া যায়। “Brompton Brother Channel” নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে ২০২২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ভিডিওটি আপলোড করা হয়। ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়েছে, “Sheikh Hasina, Bangladesh prime minister comes out of hotel claridge in London on 18/9/2022”। অর্থাৎ ভিডিওটি ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর লন্ডনে ধারণ করা হয়েছিল।
ভিডিওটির প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করে জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে যোগ দিতে যুক্তরাজ্যে যান। ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি ওয়েস্টমিনস্টার প্যালেসে রাখা প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এসময় তার সঙ্গে ছোট বোন শেখ রেহেনাও ছিলেন। বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত ওই দিনের ছবিতেও শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনাকে ভিডিওতে দেখা একই ধরনের কালো পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। এসব তথ্য ও দৃশ্যগত মিল থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়, প্রচারিত ভিডিওটি ২০২২ সালের লন্ডন সফরেরই অংশ।
এদিকে, গতকাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব গোলাম মাওলা রনি তার একটি ফেসবুক ভিডিওতে প্রচারিত ভিডিওটিকে সাম্প্রতিক দাবি করে বলেন, “সম্প্রতি ইন্টারনেটে একটি ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি সরকারি প্রটোকলের গাড়ি, দিল্লি সরকারের প্রটোকলের গাড়ি, চারিদিকে সেই গাড়ির পাহারাদার এবং যিনি প্রটোকল পাচ্ছেন, তার প্রটোকল কর্মকর্তা এবং কিছুসব জনতা। তার মধ্যে মাস্ক পরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা গাড়িতে উঠছেন। এবং তার সঙ্গে তার বোন শেখ রেহেনা, তিনিও গাড়িতে উঠছেন।”
গোলাম মাওলা রনির বক্তব্যের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটির দৃশ্যের হুবহু মিল রয়েছে। প্রায় ১১ মিনিটের ওই ভিডিওর ৫ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে রনি ভিডিওটি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে নিজের দীর্ঘদিনের সিনেমা দেখা, সাংবাদিকতা ও ইউটিউবিংয়ের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, “এটি দুই নম্বর কোনো ভিডিও নয়, এআই নির্ভর নয়, এটি ফেইক নয়, এটি পুরনো কোনো ভিডিও নয়, এটি একেবারে সাম্প্রতিক।”
তবে অনুসন্ধানে রনির এই দাবি সঠিক বলে প্রমাণিত হয়নি। ভিডিওটির পুরনো উৎস, আপলোডের তারিখ এবং ভিডিওটির সঙ্গে ২০২২ সালের শেখ হাসিনার লন্ডন সফরের তথ্য ও ছবির মিল থেকে স্পষ্ট যে, এটি সাম্প্রতিক কোনো ভিডিও নয়। একইসঙ্গে ভিডিওটি ভারতের দিল্লিতে ধারণ করা হয়নি; বরং ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ধারণ করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেও একই ভিডিওটি ভারতে প্রকাশ্যে শেখ হাসিনাকে দেখা গেছে, এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল। সে সময় ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম ডিসমিসল্যাব ভিডিওটির প্রকৃত উৎস ও প্রেক্ষাপট যাচাই করে এটি পুরনো ভিডিও হিসেবে শনাক্ত করেছিল।
সুতরাং, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনাকে ভারতে সম্প্রতি প্রকাশ্যে দেখা গেছে, এমন দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি পুরনো। ভিডিওটি ২০২২ সালের লন্ডন সফরের সময় ধারণ করা হয়েছিল। ফলে ভিডিওটির সঙ্গে ভারতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক উপস্থিতির দাবি বিভ্রান্তিকর।