সত্য জানুন, সচেতন থাকুন

Bangla Check
মিথ্যা

বিএনপি-ছাত্রদলের হামলায় নয়, জমি সংক্রান্ত বিরোধে নিহত হন ছাত্রলীগ কর্মী আহাদ

বাংলাচেক ৩ মিনিট পড়ুন ১ বার পড়া হয়েছে
বিএনপি-ছাত্রদলের হামলায় নয়, জমি সংক্রান্ত বিরোধে নিহত হন ছাত্রলীগ কর্মী আহাদ

প্রথম প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

বাগেরহাটের রামপালে আহাদ আহমেদ ইতু (২৪) নামের এক তরুণকে ছাত্রলীগের কর্মী দাবি করে তার হত্যার জন্য স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আওয়ামীপন্থী একাধিক আইডি ও পেজ থেকে এ দাবি ছড়ানোর পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীও তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একই ধরনের দাবি করেছেন।

এমন দাবিতে প্রচারিত কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।

তবে অনুসন্ধানে ইতুর হত্যার ঘটনাটি রাজনৈতিক বিরোধের কারণে ঘটেছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও পুলিশ-পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তার চাচাতো ভাইদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনি নিহত হন।

গোলাম রব্বানী তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, “ছেলে ছাত্রলীগ করার অপরাধে বাবা-মা কে নির্যাতন, প্রতিবাদ করলে ছেলেকে পিটিয়ে খুন” এবং স্থানীয় বিএনপি-ছাত্রদল ইতুকে হত্যা করেছে। একইভাবে আওয়ামীপন্থী পেজ ‘নিউক্লিয়াস ৭১’-এর একটি পোস্টে দাবি করা হয়, ইতু তার বাবা-মায়ের ওপর শারীরিক আঘাতের প্রতিবাদ করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা তাকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

তবে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়নের ইসলামাবাদ এলাকায় ইতু নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত একাধিক সংবাদ প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।

বাংলাভিশন, জাগো নিউজ, ঢাকা মেইল সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহাদ আহমেদের পরিবারের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই বাকি বিল্লাহ ও মাসুমের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন বিরোধপূর্ণ জমির সীমানা থেকে পানি নিষ্কাশনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

একপর্যায়ে বাকি বিল্লাহ ও মাসুমের হামলায় আহাদ আহমেদ ও তার বাবা শেখ ফরিদুজ্জামান গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে আহাদের মৃত্যু হয় এবং তার বাবাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজিব আল রসিদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে আহাদ আহমেদ ইতু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি বাকি বিল্লাহ শেখ ও মাসুম বিল্লাহ শেখকে গ্রেপ্তারের তথ্যও পাওয়া যায়। মামলার এজাহারের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৎস্যঘের ও বসতবাড়ির জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাদী ও আসামিপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল।

অন্যদিকে, আহাদ আহমেদ ইতুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে তার ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি পাওয়া যায়। ঘটনার দুদিন আগে দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি তার বাবা-মায়ের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছিলেন।

তবে ওই পোস্টে বিএনপি, জামায়াত, ছাত্রদল কিংবা কোনো রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তার রাজনৈতিক পরিচয় বা ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি আলাদা হলেও, সেটিকে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।

অতএব, প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন, পুলিশ ও মামলার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, আহাদ আহমেদ ইতুর মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে।

তাকে বিএনপি-ছাত্রদল বা জামায়াতের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে হত্যা করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এই দাবির সমর্থনে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই বিএনপি-ছাত্রদল বা জামায়াতের হাতে রাজনৈতিক কারণে ইতু নিহত হয়েছেন, এমন প্রচারণাটি বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র ও যাচাইয়ের পদ্ধতি

এই রায়ের পেছনে যে উৎসগুলো দেখা হয়েছে:

  1. ১
    BVNesws bvnews24.com
  2. ২
    Channel 24 channel24bd.tv
  3. ৩
    Dhaka Mail dhakamail.com
  4. ৪
    Star News starnews.com.bd