শিক্ষককে চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুয়া ফটোকার্ডে সয়লাব ফেসবুক

দাবির উৎস: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
প্রথম প্রকাশ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬
গাজীপুরের টঙ্গীতে এক মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে এক শিক্ষককে থাপ্পড় মারার ঘটনা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানি, ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ ও এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর নামে একাধিক ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অনুসন্ধানে ফটোকার্ডগুলোতে প্রচারিত বক্তব্যগুলোর কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যায়নি।
রফিকুল ইসলাম মাদানির নামে প্রচারিত একটি ফটোকার্ডে বলা হয়, “সামান্য চুমু খাওয়ার জন্য যারা হুজুরকে চড় মারার পক্ষে, মৃত্যুর পর কোনো আলেম তাদের জানাজা পড়াবে না”।
একই ফটোকার্ড সম্বলিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে ফটোকার্ডটিতে মাদানির বক্তব্যের কোনো সূত্র উল্লেখ করা হয়নি। একইসঙ্গে এতে কোনো সংবাদমাধ্যম বা প্রতিষ্ঠানের নাম, লোগো কিংবা অন্য কোনো পরিচয়ও নেই। মাদানির ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের একটি পোস্টে তিনি নিজেই ফটোকার্ডটিকে ভুয়া বলে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, শায়খ আহমাদুল্লাহকে উদ্ধৃত করে প্রচারিত আরেকটি ফটোকার্ডে বলা হয়, “একজন শিক্ষক হিসাবে ছাত্রীকে চুমু দেয়া অপরাধ হয় কিভাবে? ছাত্রী তো নিজের মেয়ের মতো”।
একই ফটোকার্ড সম্বলিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
অনুসন্ধানে তার নামে প্রচারিত এই বক্তব্যেরও কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যায়নি। শায়খ আহমাদুল্লাহর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট কিংবা নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যমে তার নামে এমন মন্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, শায়খ আহমাদুল্লাহর নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি প্রথমে ‘Gupto TV’ নামের একটি স্যাটায়ার পেজ থেকে প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে ফটোকার্ডটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এছাড়া ইসলামি স্কলার এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে উদ্ধৃত করে একটি ফটোকার্ডে বলা হয়, “ইসলামে জিম করা ধর্ম পরিপন্থী। আল্লাহর দেয়া শরীরকে শক্তিশালী করতে পরিবর্তন করা শিরক”।
একই ফটোকার্ড সম্বলিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে অনুসন্ধানে আব্বাসীর নামে এমন কোনো বক্তব্য বা মন্তব্যেরও নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যায়নি।
এদিকে, জিম করে বডি বিল্ডিং করা নিয়ে এনটিভির ইসলামিক অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’র একটি পুরোনো ভিডিও ক্লিপ বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে। ইউটিউবে ২৮ অক্টোবর ২০২৫ সালে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে অনুষ্ঠানের উপস্থাপক জিম করে বডি বিল্ডিং করা জায়েজ কি না জানতে চাইলে আলোচক শাইখ ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। তবে ভিডিওটির বক্তব্যের সঙ্গে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটির কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, আব্বাসীর নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটিও প্রথমে ‘Gupto TV’ নামের একই স্যাটায়ার পেজ থেকে প্রচার করা হয়। এর আগে এই পেজ থেকে স্যাটায়ারের নামে একাধিক ভুয়া ফটোকার্ড প্রচারের ঘটনাও বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্ম শনাক্ত করেছে।
অতএব, গাজীপুরের টঙ্গীতে শিক্ষককে থাপ্পড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রফিকুল ইসলাম মাদানি, শায়খ আহমাদুল্লাহ ও এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর নামে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলোর বক্তব্যের কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যায়নি। মাদানি নিজেও তার নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটিকে ভুয়া বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি, আহমাদুল্লাহ ও আব্বাসীর নামে প্রচারিত ফটোকার্ড দুটি ‘Gupto TV’ নামের একটি স্যাটায়ার পেজ থেকে প্রথম প্রচারিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে ফটোকার্ডগুলোকে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রতীয়মান হয়।