সাদিক কায়েমকে ধন্যবাদ জানানোর দাবিতে নেহা বোরার বক্তব্যের ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর

প্রথম প্রকাশ: অক্টোবর ২০, ২০২৬
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভারতের আন্দোলনে সাদিক কায়েম! হতবাক মোদি প্রশাসন’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, ভারতের চলমান আন্দোলনে সংহতি জানানোয় ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমকে দেশটির আন্দোলনকারীরা ও ছাত্রনেতারা ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, দাবিটি সঠিক নয়। সাদিক কায়েমকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রচারিত প্ল্যাকার্ডের ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত এবং ভিডিওতে দেখানো নেহা বোরার বক্তব্যও সাদিক কায়েমকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়নি।
‘True News 24’, ‘খবর+’সহ একাধিক ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে ভিডিওটি প্রচার করা হয়। একই ভিডিও ‘আপনার রাজনীতি’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল থেকেও প্রচার করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় ‘True News 24’-এর ভিডিওতে এক লাখ আট হাজারের বেশি রিয়েক্ট ও ২০ হাজারের বেশি শেয়ার এবং ‘খবর+’ পেজের ভিডিওতে প্রায় ৪৫ হাজার রিয়েক্ট ও ১০ হাজারের বেশি শেয়ার দেখা যায়। তিনটি প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত ভিডিওগুলোর দৈর্ঘ্য একই, ৮ মিনিট ২ সেকেন্ড। ভিডিওগুলোর ভয়েস ওভারেও একই ব্যক্তির কণ্ঠ শোনা যায়।
ভিডিওটির শুরুতে ভারতের আন্দোলনের কিছু দৃশ্যের সঙ্গে একজন আন্দোলনকারীর হাতে ‘Thank you Sadik Kayem’ লেখা একটি প্ল্যাকার্ড দেখানো হয়। প্ল্যাকার্ডটিতে সাদিক কায়েমের ছবিও যুক্ত করা হয়েছে।
ভিডিওতে দাবি করা হয়, সাদিক কায়েম ঢাকায় বসে ভারতের আন্দোলনরত তরুণদের প্রতি সংহতি জানিয়ে একটি ভিডিও বার্তা দেওয়ার পর তা ভারতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এরপর সাদিক কায়েমের সংহতি জানানোর একটি ভিডিও ক্লিপ দেখানো হয়। পরে ভারতের অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর বর্তমান জাতীয় সভাপতি নেহা বোরার একটি বক্তব্য দেখিয়ে দাবি করা হয়, তিনি সাদিক কায়েমকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং ভারতীয় তরুণদের কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য তার প্রশংসা করেছেন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত ১১ অক্টোবর সাদিক কায়েম তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভারতের আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। তবে ওই ভিডিওর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের কোনো ছাত্রনেতা তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা সংবাদ পাওয়া যায়নি। একইভাবে, ভারতের আন্দোলনে সাদিক কায়েমকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের দাবির পক্ষেও ভারত বা বাংলাদেশের কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন বা ছবিটি পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া ভিডিওটির শুরুতে দেখানো ‘Thank you Sadik Kayem’ লেখা প্ল্যাকার্ডের ছবিটি গুগলের এআই শনাক্তকারী প্রযুক্তি SynthID-তে যাচাই করা হয়। এতে ছবিটিকে আংশিকভাবে গুগল এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত হওয়ার সম্ভাবনা হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ফলে ছবিটিকে ভারতের আন্দোলনের বাস্তব দৃশ্য হিসেবে প্রচারের দাবিটিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
অন্যদিকে, ভিডিওতে দেখানো নেহা বোরার বক্তব্যের মূল উৎস খুঁজে পাওয়া যায়। গত ১৩ অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ফেসবুক পেজে নেহা বোরার ওই ভিডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়। ক্যাপশনে জানানো হয়, সংগঠনটির ৬ষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলন উপলক্ষে ভারতের অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই ভিডিও নিয়ে বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ওই বক্তব্যে নেহা বোরা বলেন, “ভারতজুড়ে এখন যে জেন-জি আন্দোলন চলছে, তা মূলত শুরু হয়েছে বাংলাদেশকে দেখে। আমাদের পথ দেখানোর জন্য ও ভারতের তরুণ সমাজের প্রতি সমর্থন জুগিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আমরা জানি, বাংলাদেশে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা ছিল, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াই। বর্তমানে ভারতে যে বিক্ষোভ চলছে, তার উদ্দেশ্যেও এক।”
তার বক্তব্যের কোথাও সাদিক কায়েমকে ব্যক্তিগতভাবে উদ্দেশ্য করে ধন্যবাদ জানানোর কথা নেই। ভিডিওতে থাকা বক্তব্যের নির্দিষ্ট অংশকে কেটে ও ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে সাদিক কায়েমকে ধন্যবাদ জানানোর দাবি তৈরি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ভারতের চলমান আন্দোলনের অন্য কোনো ছাত্রনেতা বা আন্দোলনকারী সাদিক কায়েমকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, এমন দাবির পক্ষেও কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অতএব, ভারতের আন্দোলনে সাদিক কায়েমকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন এবং ভারতীয় ছাত্রনেত্রী নেহা বোরার তাকে ধন্যবাদ জানানোর দাবি বিভ্রান্তিকর। নেহা বোরার বক্তব্যটি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৬ষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলন উপলক্ষে দেওয়া শুভেচ্ছাবার্তার অংশ। এটি সাদিক কায়েমকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া কোনো বক্তব্য নয়। একইসঙ্গে ভিডিওর শুরুতে দেখানো ‘Thank you Sadik Kayem’ লেখা প্ল্যাকার্ডের ছবিটিও এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তথ্যসূত্র ও যাচাইয়ের পদ্ধতি
এই রায়ের পেছনে যে উৎসগুলো দেখা হয়েছে:
- ১
- ২